আগামী নির্বাচন বিশ্বের মানুষের নিকট অবশ্যই গ্রহণযোগ্যতা পাবে : কৃষিমন্ত্রী

কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, আগামী নির্বাচন অবশ্যই সুষ্ঠু ও সুন্দর হবে এবং তা বিশ্বের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাবে।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচন বানচালের জন্য বিএনপি বিভিন্ন ধরনের আন্দোলন কর্মসূচি পালন করছে ও নানা রকম হুমকি দিচ্ছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালের মতো আবারও সহিংসতা, আগুন সন্ত্রাস ও তান্ডব সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোরভাবে তাদের এই অপচেষ্টাকে মোকাবেলা করবে। একইসঙ্গে, আওয়ামী লীগও রাজনৈতিকভাবে বিএনপিকে মোকাবেলা করার সর্বাত্মক চেষ্টা করবে।’
ড. রাজ্জাক আজ শনিবার টাঙ্গাইলের মধুপুর জাতীয় উদ্যানের বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়িত দোখলা রেঞ্জে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল উন্মোচন এবং বন উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। টাঙ্গাইল বনবিভাগ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচন বানচাল করার জন্য কোন বিদেশি শক্তি বা দেশ যদি চেষ্টা করে- তবে তা মোকাবেলা করার মতো অর্থনৈতিক সক্ষমতাসহ সব শক্তি বাংলাদেশের রয়েছে। দেশের জনগণ আমাদের সাথে রয়েছে। জনগণকে নিয়েই দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সকল ষড়যন্ত্র আমরা মোকাবেলা করব।’
তিনি ভিসানীতি প্রসঙ্গে বলেন, বাংলাদেশ হচ্ছে ১৭ কোটি মানুষের দেশ। আমেরিকায় কয়জন মানুষ যায়? তারা নিষেধাজ্ঞা দিয়ে কী করবে? গুলশান বনানীর বড় লোকের ছেলেমেয়েরা আমেরিকায় যায়। তারা না যেতে পারলে বাংলাদেশের কোন ক্ষতি হবে না। দু-একজন মন্ত্রী না যেতে পারলেও দেশের কোন ক্ষতি হবে না।
মন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমরা জেলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। ভিসা নিয়ে আমরা আমেরিকা যেতে পারব না- এটি কোন বিষয় না।’
ড. রাজ্জাক বলেন, আমেরিকা অর্থনৈতিক, সামরিকভাবে শক্তিশালী বড় দেশ। তাদের বিভিন্ন হুমকি, নিষেধাজ্ঞা প্রভৃতি শুধু বাংলাদেশ নয়, পৃথিবীর অন্য অনেক দেশকেও মোকাবেলা করতে হয়।
তিনি বলেন, ‘অর্থনৈতিকভাবে যদি আমেরিকা স্যাংশন দেয়, আমরাও দেখবো কীভাবে তা মোকাবেলা করা যায়। আন্তর্জাতিক বিশ্বে অনেক দেশ আমাদের সাথে আছে। কাজেই, স্যাংশন দিয়ে আমাদেরকে নিবৃত্ত করা যাবে না।’
মধুপুরের বন দেশের জাতীয় সম্পদ- এ কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এটি টাঙ্গাইলের জন্য ঐতিহ্য ও গৌরবের। ঘনবসতিপূর্ণ দেশে বন রক্ষা করা খুবই কঠিন। নানান কারণে বনের অনেকটা ধ্বংস হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘মধুপুরের বন রক্ষার জন্য আমরা নানান উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। যারা বন কাটত, তাদেরকে আমরা বন রক্ষার জন্য ভলান্টিয়ার করেছি। বন সংক্রান্ত ২৮ কোটি টাকার প্রকল্প’র বাস্তবায়নে কাজ চলছে।’
ঢাকা কেন্দ্রীয় অঞ্চলের বন সংরক্ষক হোসাইন মো. নিশাদের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য জোয়াহেরুল ইসলাম, টেকসই বন ও জীবিকা প্রকল্পের পরিচালক গোবিন্দ রায়, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি মো. ইয়াকুব আলী, পৌরসভার মেয়র সিদ্দিক হোসেন খান প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on linkedin
LinkedIn
Share on email
Email

সম্পকিত খবর