আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তাহের শাহ্’র নেতৃত্বে ৫১ তম জশনে জুলুস বৃহস্পতিবার

আজ ২১ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব মিলনায়তনে জশ্নে জুলুসে ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী (দরূদ) সফলকল্পে আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বলা হয় এবারের জশ্নে জুলুসে নেতৃত্ব দিবেন আওলাদে রাসুল, রাহনুমায়ে শরিয়ত ও তরিকত আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তাহের শাহ্ মাদ্দাজিল্লুহুল আলী, প্রধান মেহমান পীর আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ্ মাদ্দাজিল্লুহুল আলী এবং বিশেষ মেহমান সৈয়্যদ মুহাম্মদ কাসিম শাহ্ মাদ্দাজিল্লুহুল আলী। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় ষোলশহরস্থ আলমগীর খানকাহ শরীফ থেকে এ জুলুস বের হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা সংলগ্ন জুলুস ময়দানে ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) মাহফিলে অংশগ্রহণ, সালাতু সালাম ও মোনাজাত শেষে জুলুসের সমাপ্তি হবে। এর তিনদিন আগে ২৫ সেপ্টেম্বর, সোমবার তথা ৯ রবিউল আউয়াল রাজধানী ঢাকা মোহাম্মদপুরস্থ কাদেরিয়া তৈয়্যবিয়া মাদ্রাসা থেকেও জুলুস বের করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংস্থাটির সেক্রেটারী জেনারেল আলহাজ্ব মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। লিখিত বক্তব্যে আসন্ন জশনে জুলুসকে সফল করতে সকলের সহযোগিতা কামনা করে বলা হয়, বাংলাদেশে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উপলক্ষে আয়োজিত বেসরকারি পর্যায়ের সর্ববৃহৎ অনুষ্ঠানটি ব্যবস্থা করে আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট। দিবসটিকে উদযাপনের জন্য আনজুমান ১৯৭৪ থেকে চট্টগ্রামে সর্বপ্রথম ‘জশনে জুলুস’ আরম্ভ করে, যা বর্তমানে সমগ্র দেশে বহুল জনপ্রিয়তা পেয়ে, অধিকাংশ সুন্নি সূফী ঘরানার প্রতিষ্ঠান এবং দরবারেও অনুসৃত হয়ে আসছে। আনজুমান ট্রাস্ট আয়োজিত জশনে জুলুসটি বর্তমানে চট্টগ্রামের ইতিহাস-ঐতিহ্যের নিদর্শন হিসেবে গণ্য হচ্ছে। চট্টগ্রামের মানুষ সমগ্র বছর ধরে অপেক্ষায় থাকে কখন আবারো ফিরে আসবে ১২ রবিউল আউয়াল। আবারো তারা কখন মিলিত হবে এই নির্মল জান্নাতি শান্তির মোহনায়। এখানে ধর্মপ্রাণ মানুষ যেভাবে স্বত:স্ফূর্তভাবে যোগদান করে, ঠিক তেমনি যে যার যার সামর্থ্য অনুসারে মেহমানদারি করার চেষ্টা করে জুলুসের আগত অতিথিদের। এবারের জুলুসটি হবে ৫১ তম আয়োজন। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দীর্ঘ পাঁচ দশকে জশনে জুলুস শুধু বাংলাদেশের প্রতিটি জনপদে উদযাপন হচ্ছে তা নয়; বরং বিশ্বেও শতাধিক রাষ্ট্রে এখন মিলাদুন্নবী উদযাপনে অন্যতম আকর্ষণে পরিনত হয়েছে জশনে জুলুস। সম্মেলনে বলা হয়, এ পবিত্র মহা আয়োজন যাতে সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ হয়, এ জন্য গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ এবং আনজুমান সিকিউরিটি ফোর্সের অন্তত পাঁচ হাজারের মতো স্বেচ্ছাসেবক সমগ্র জুলুসে দায়িত্ব পালন করবে। আমরা আশা করি, বরাবরের মতো চট্টগ্রামের পুলিশ প্রশাসনের সার্বিক সহায়তাও আমাদের সাথে থাকবে। আমরা এই বিশাল জশনে জুলুসে আগতদের সেবায় জেলা প্রশাসন, সিটি কর্পোরেশন, সিডিএ, ওয়াসা, বিদ্যুৎ, পরিবহন সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের সহায়তা কামনা করছি। বিশেষত, জুলুসে গমনের সড়কপথে যেন কোন বিপদ না ঘটে সেজন্য নালা-নর্দমার উপরিভাগ উম্মুক্ত যেন না থাকে সে বিষয়ে আমরা কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। একই সাথে জুলুসের সংবাদ কভারেজে বরাবরের মত গণমাধ্যমগুলোর আন্তরিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন কেন্দ্রীয় গাউসিয়া কমিটির যুগ্ম মহাসচিব এড. মোছাহেব উদ্দিন বখতিয়ার, সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট’র এডিশনাল জেনারেল সেক্রেটারী ও জুলুস সাব-কমিটির আহবায়ক্ব মোহাম্মদ সামশুদ্দিন, ফাইন্যান্স সেক্রেটারী মুহাম্মদ এনামুল হক বাচ্চু, অর্গানাইজিং সেক্রেটারী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম, গাউসিয়া কমিটির কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান পেয়ার মোহাম্মদ (সাবেক কমিশনার), জামেয়া আহমদিয়া সুনিèয়া কামিল মাদ্রাসার চেয়ারম্যান প্রফেসর আবুল মহসিন মোঃ ইয়াহিয়া খাঁন, অধ্যক্ষ আল্লামা হাফেজ মুহাম্মদ আবদুল আলীম রেজভী, পিএইচপি ফ্যামিলির প্রতিনিধি মুহাম্মদ দিলশাদ, মহানগরের সহ-সভাপতি ছাবের আহমদ, সম্পাদক মাওলানা আবদুল্লাহ, উত্তর জেলার সম্পাদক এড. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, দক্ষিণ জেলার সম্পাদক মাস্টার মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ, মিডিয়া কমিটির সদস্য অধ্যক্ষ আবু তালেব বেলাল, সাইফুল আলম সিদ্দিকী,মুহাম্মদ মনছুরুর রহমান,আ ন ম তৈয়ব আলী, আহসান হাবীব চৌধুরী হাসান, আবু নাসের রনি, এরশাদ খতিবী প্রমূখ।

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on linkedin
LinkedIn
Share on email
Email

সম্পকিত খবর