ওয়ারিশ সনদে একমাত্র সৎ বোনকে ‘নাই’ করে দিয়ে সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগ !

চট্টগ্রাম নগরের ঐতিহ্যবাহী দিদার মার্কেটের প্রতিষ্ঠাতা দিদারুল আলম চৌধুরীর প্রথম স্ত্রী উম্মে কলসুম চৌধুরী তাদের একমাত্র সন্তান সামছী ক্বমর চৌধুরীর জন্মের ৪ মাসের মধ্যে মারা যান। এরপর দিদারুল আলম দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে শিরিন আনোয়ারকে বিয়ে করেন। ওই সংসারে ৩ ছেলে ও ৪ মেয়ে সন্তান রয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, ১৯৯২ সালের ৯ সেপ্টেম্বর দিদারুল আলম চৌধুরী মারা যাওয়ার পর তার দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তানরা প্রথম স্ত্রী উম্মে কলসুমের একমাত্র ওয়ারিশ সামছী ক্বমর চৌধুরীকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করতে নানা ছলচাতুরি আশ্রয় নেন। তারা ২০০১ সালের ১৩ জুন চট্টগ্রাম সিটি কপোরেশনের তৎকালীন চকবাজার ওয়ার্ড কমিশনার পেয়ার মোহাম্মদ ও ২০০৬ সালের ২৮ মে দেওয়ান বাজার ওয়ার্ড কমিশনার চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনীকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে দুটি মিথ্যা ওয়ারিশ সনদ নেন। এতে দিদারুল আলম চৌধুরীর প্রথম স্ত্রী উম্মে কলসুমের একমাত্র সন্তান সামছী ক্বমর চৌধুরীর নাম ছিল না। ওয়ারিশ সনদে তাকে বাদ দিয়ে তার বিপুল পরিমাণ সম্পদ আত্মসাৎ করা হচ্ছে। শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে সামছী ক্বমর চৌধুরীর সন্তানরা এমন অভিযোগ করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য রাখেন সামছী ক্বমর চৌধুরীর বড় ছেলে মোহাম্মদ আলতাফ উল আলম। উপস্থিত ছিলেন মেঝ ছেলে ড. মোহাম্মদ আরশাদ উল আলম, মোহাম্মদ সাজ্জাদ ও জাওয়াদ উল আলম প্রমূখ।

সংবাদ সম্মেলনে ড. মোহাম্মদ আরশাদ উল আলম বলেন, মিথ্যা ওয়ারিশ সনদের বিষয়ে আমরা আদালতে মামলা করলে ২০১৯ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি দেওয়ান বাজার ওয়ার্ড কমিশনার চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী তাঁর দপ্তর থেকে ইস্যুকৃত মিথ্যা ওয়ারিশ সনদটি বাতিল করেন।

তারা বলেন, মিথ্যা ওয়ারিশ সনদের ভিত্তিতে সামছী ক্বমর চৌধুরীর সৎ ভাই শাহরিয়া ইবনে দিদার, মৃত শাহনেওয়াজ ইবনে দিদারের সন্তানরা ও শাহজাদ ইবনে দিদার বেশ কিছু পৈত্রিক জমি বিক্রি, জমি রেজিস্ট্রেশন ও নামজারী করেন। তারা একমাত্র বৈমাত্রেয় বোনের সম্মতিবিহীন অন্যায্য দানপত্র ও ১০টিরও বেশি বিক্রয় দলিল ও আত্মসাতের উদ্দেশ্যমূলক একটি অন্যায্য অংশনামা তৈরি করেন। মিথ্যা ওয়ারিশ সনদ ও সম্মতিবিহীন অংশনামা দিয়ে আমার মায়ের বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টায় লিপ্ত আছেন।

সংবাদ সম্মেলনে দিদারুল আলম চৌধুরীর দ্বিতীয় পক্ষের সন্তানদের জালিয়াতির কথা তুলে ধরে বলেন, দিদারুল আলম চৌধুরী মারা যাওয়ার ১০ বছর পর তাঁর সন্তানরা ২০০২ সালে তার স্বাক্ষরে (?) একটি জাল ও ভুয়া রেজিস্ট্রি বিক্রয় দলিল তৈরি করেন। পিবিআই, সিআইডি ও কোতোয়ালী থানার তদন্ত কর্মকর্তা ভিন্ন ভিন্ন তদন্তে তাদের বিভিন্ন অপরাধের সত্যতা পান, ও আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

সংবাদ সম্মেলনে জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়াদের গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়।

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on linkedin
LinkedIn
Share on email
Email

সম্পকিত খবর