জন্মাষ্টমীর বর্ণাঢ্য মহাশোভাযাত্রায় মানুষের ঢল : এদেশে কোন সাম্প্রদায়িক শক্তি মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না : আ.জ.ম নাছির

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, বাংলাদেশ রচিত হয়েছিল মুসলিম হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান সবার রক্তের স্রোতের বিনিময়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে। হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খ্রিস্টান সবাই হাতে হাত ধরে যুদ্ধ করেছে, জীবন দিয়েছে সবার সম্মিলিত রক্ত ¯্রােতের বিনিময়ে। এই দেশ রচিত হয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে। আমাদের দেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। শান্তির দেশে সাম্প্রদায়িক উসকানি দিয়ে কেউ যেন শান্তি বিনষ্ট করতে না পারে সেজন্য সবসময় সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, সকল ধর্মের মর্মবাণী হচ্ছে মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টি করা। আবহমান কাল থেকে এদেশের মানুষ অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে বসবাস করে আসছে। যে কোন মূল্যে সে ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে হবে। ধর্ম যার যার উৎসব সবার। এদেশ কারও একার নয়, এদেশ সবার। শ্রীকৃষ্ণ আজীবন মানবতার জয়গান গেয়ে গেছেন। তাই তাঁর আদর্শ ধারণ করতে পারলে সমাজে কোন বৈষম্য থাকতে পারে না।
তিনি আজ ৬ সেপ্টেম্বর (বুধবার) সকালে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথি উপলক্ষে শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদ্যাপন পরিষদ-বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটি আয়োজিত নগরীর আন্দরকিল্লা মোড় চত্বরে বর্ণাঢ্য মহাশোভাযাত্রার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে মহাশোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী। জন্মাষ্টমী মহাশোভাযাত্রা পরিষদের আহবায়ক মাইকেল দে ও সদস্য সচিব দেবাশীষ নাথ দেবুর সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন জন্মাষ্টমী উদ্যাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী প্রবীর কুমার সেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন নোমান আল মাহমুদ এমপি, জন্মাষ্টমী উদ্যাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শিল্পপতি সুকুমার চৌধুরী, সিএমপি কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায়, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, জন্মাষ্টমী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি দেবাশীষ পালিত, মহানগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা শফর আলী, জন্মাষ্টমী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. চন্দন তালুকদার, বিমল কান্তি দে, ডা. তিমির বরণ চৌধুরী, কাউন্সিলর জহর লাল হাজারী, লায়ন আশীষ কুমার ভট্টাচার্য্য, কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন, কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব, কাউন্সিলর পুলক খাস্তগীর, মহিলা কাউন্সিলর নিলু নাগ ও রুমকি সেনগুপ্ত, প-িত গদাধর দাস ব্রহ্মচারী। আরো বক্তব্য রাখেন ডা. মনোতোষ ধর, সাধন ধর, লায়ন দুলাল চন্দ্র দে, পরেশ চন্দ্র চৌধুরী, চন্দন দাশ, কৃষ্ণ কান্তি দত্ত, লায়ন তপন কান্তি দাশ, প্রকৌশলী আশুতোষ দাশ, তাপস কুমার নন্দী, অরূপ রতন চক্রবর্তী, বাবুল ঘোষ বাবুন, চন্দন দে, লায়ন শঙ্কর সেনগুপ্ত, লায়ন রবিশংকর আচার্য্য, ডা. বিধান মিত্র, বিপ্লব কুমার চৌধুরী, অনুপ বরণ দাশ, প্রদীপ বিশ্বাস, বিপ্লব মিত্র, রতন আচার্য্য, সলিল কান্তি গুহ, অধ্যাপক অর্পণ কান্তি ব্যানার্জী, রাজীব দত্ত রিংকু, আশীষ চৌধুরী, সুমন দেবনাথ, বিটু দাশ বাবলু, শ্রীপ্রকাশ দাশ অসিত, ডা. কথক দাশ, প্রকৌশলী সনজিত বৈদ্য, কানুরাম দে, লিটন কান্তি দত্ত, হিল্লোল সেন উজ্জ্বল, রতœাকর দাশ টুনু, শিবু প্রসাদ চৌধুরী, দেবাশীষ আচার্য্য, রাহুল দাশ, প্রদীপ দাশ বাবু, এস প্রকাশ পাল, সজল দত্ত, দিপাল অনিন্দ পাল, বিলু ঘোষ, রতন রায়, গোপাল বিশ্বাস, রাধা দেবী টুন্টু মুন, নন্দিতা দাশ, সুভাষ চন্দ্র দাশ প্রমুখ।
শোভাযাত্রায় কয়েক লক্ষ মানুষের অংশগ্রহণে মিলিত হয় মিলনমেলায়। বিভিন্ন সাজে সজ্জিত হয়ে নেচে গেয়ে বাদ্য বাজনা বাজিয়ে মহাশোভাযাত্রা এক অপরূপ দৃশ্যে পরিণত হয়। শিশু, মহিলা, বৃদ্ধ থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের মানুষের সরব অংশগ্রহণে এক নবরূপ ধারন করে। শোভাযাত্রা দেখে মনে হয়েছে যেন কৃষ্ণ প্রেমের এক অদৃশ্য টানে ছুটে চলেছে তারা শেকড়ের সন্ধানে। ফেস্টুন ও ব্যানার সহকারে মহাশোভাযাত্রায় অংশ নেন সনাতনী সম্প্রদায়ের বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন ও মঠ-মন্দিরের নেতৃবৃন্দ। বর্ণাঢ্য মহাশোভাযাত্রাটি আন্দরকিল¬া, লালদিঘী, কোতোয়ালী, নিউমার্কেট, তুলসীধাম, ডিসি হিল, চেরাগী পাহাড় হয়ে জে.এম.সেন হল প্রাঙ্গণে পৌঁছালেও মহাশোভাযাত্রার শেষ অংশ তখন আন্দরকিল¬া পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। পথিমধ্যে হাজার হাজার নারী-পুরুষ বিভিন্ন স্থানে দাঁড়িয়ে বাড়ির ছাদ থেকে ফুল ও উলুধ্বনি দিয়ে মহাশোভাযাত্রাকে স্বাগত জানায়।

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on linkedin
LinkedIn
Share on email
Email

সম্পকিত খবর