শিক্ষাক্ষেত্রে রাজধানী নির্ভরতা কমাতে চান শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষাক্ষেত্রে রাজধানী নির্ভরতা কমাতে চান শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

শনিবার (২০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব ও চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের যৌথ উদ্যোগে সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সবকিছুতেই রাজধানীমুখীতা বেশি। সেজন্য অন্যান্য শহরগুলোতে কাজ সৃষ্টি হচ্ছে না।
রাজধানী ঢাকার ওপর যে ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে, সেটি থেকে মুক্তি পেতে বিকেন্দ্রীকরণের কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ক্ষেত্রে আমাদের পক্ষে যা করা সম্ভব তা করার চেষ্টা করব। চট্টগ্রামে কেউ যদি প্রতিষ্ঠান করতে চান সেটার সিদ্ধান্ত এখান থেকেই যেন পান। ঢাকা কিংবা শিক্ষামন্ত্রালয়ে যেন দৌড়াদৌড়ি করতে না হয়। ’

এসময় শিক্ষামন্ত্রী সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডে প্রেষণে এসে বছরের পর বছর ধরে থেকে যাওয়া, ফল জালিয়াতিসহ নানা দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়া কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা-এমন প্রশ্নও রাখা হয় শিক্ষামন্ত্রীর নিকট। জবাবে নওফেল বলেন, অভিযোগ সম্পর্কে আমি জানি। তবে এই প্রক্রিয়াটি এমনই যে সেখানে একটু সময় প্রয়োজন হয়। দীর্ঘদিন ধরে দেশে শিক্ষক সংকট আছে। সেজন্য শিক্ষকদের ক্ষেত্রে যদি কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে চাইলেও সেটা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং হয়ে যায়। তবে শিক্ষার ক্ষেত্রে নাগরিকদের যে সমস্ত সেবা নেওয়ার জায়গা রয়েছে শিক্ষাবোর্ড বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠান-সেগুলোতে যাতে কোনো দুর্নীতি না হয়। নানা ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেনের যেসব অভিযোগ আসেও, সেগুলো যাতে আমরা নিরসন করতে পারি-সেই চেষ্টা করবো।

নতুন কারিকুলাম নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে জানিয়ে চট্টগ্রাম-৯ আসনের এ সংসদ সদস্য বলেন, ‘আমাদের ১ কোটি ৮০ লাখ শিক্ষার্থী হারিয়ে যাচ্ছে। তাদের ধরে রাখতে কারিকুলাম পরিবর্তনের বিকল্প নেই। শিক্ষার যে গুণগত পরিবর্তন যেগুলো এসেছে সেটার ফল আমরা আগামীতে দেখব। শিক্ষার একটা চ্যালেঞ্জ হচ্ছে দৃশ্যমান হয় দেরিতে। আমরা আগামী পাঁচ বছর পর হয়তো দৃশ্যমান কিছু দেখব। ভবিষ্যতে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে ব্যাপক অবকাঠামোগত উন্নয়নও হবে। এমন ধরনের দক্ষতা ও মানসিকতা তাদের দিতে হবে, যেখানে তাদের নতুন দক্ষতা শেখার মানসিকতা তৈরি হয়। পরীক্ষার ফল দিয়ে সন্তানদের বিচার না করে, দক্ষতা দিয়ে তাদের বিচার করার অনুরোধ জানান তিনি।

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি সালাহ্উদ্দিন রেজার সভাপতিত্বে ও চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ম. শামসুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি তপন চক্রবর্তী, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ সভাপতি চৌধুরী ফরিদ, সাধারণ সম্পাদক দেবদুলাল ভৌমিক, সাবেক সভাপতি আবু সুফিয়ান, কলিম সরওয়ার, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মোস্তাক আহমদ, সাংবাদিক ইউনিয়নের সিনিয়র সহসভাপতি রুবেল খান প্রমুখ।

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on linkedin
LinkedIn
Share on email
Email

সম্পকিত খবর