শেখ হাসিনার গতি কেউ রোদ করতে পারবে না

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও সংসদীয় উপনেতা বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক পরিবার, আওয়ামী লীগ একটি মহিনহু এবং যে মহিনহু ছাঁয়া দিয়েছে বাংলার মানুষকে, ঝড়-বৃষ্টি-বাদলের বিভিন্ন প্রতিক‚ল সময়ে। একই সাথে আওয়ামী লীগের ঢাল-পালাতে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন শকুনেরা বাসাও বেধেছে, যার জন্য আওয়ামী লীগকে অনেক মাশুল দিতে হয়েছে। আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ৭৫ পরবর্তী যে কোন সময়ের চাইতে শক্তিশালী ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে আছে, এই ভিত্তি দিন দিন জনসেবা ও সঠিক রাজনীতির মাধ্যমে মজবুত হচ্ছে। আজ ৯ অক্টোবর-২০২৩ইং বেলা-১১টায় নগরীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক রাষ্ট্রদূত জননেতা আতাউর রহমান খান কায়সারের ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে সাধারণ মানুষের জীবন মান উন্নত হয়েছে, আজকে গ্রামাঞ্চলে ফকিরেরা পান্তা ভাত দিলে খেতে চাইনা। আমরা অনেক উৎসব শুনেছি, কিন্তু বছরের শুরুতে বই উৎসব হচ্ছে শেখ হাসিনার উপহার, যা পৃথিবীর কোথাও নেই। দেশের কমিউনিটি ক্লিনিকে ২২ রকমের ঔষধ বিনামূল্যে পাওয়া যায়। গৃহহীনদের গৃহ নির্মাণ করে দিয়ে শেখ হাসিনার সরকার নজির স্থাপন করেছে। আজকে আমরা দেখতে পায় বাংলাদেশ দূর্দান্তনীয়ভাবে এগিয়ে চলেছে। এখান থেকে পিঁছনে যাওয়ার কোন অবকাশ নেই। যদিও ষড়যন্ত্র হচ্ছে, শত্রæর মুখে চাই দিয়ে আমাদের গতি কেউ রোদ করতে পারে নাই, শেখ হাসিনার গতি কেউ রোদ করতে পারবে না। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে, দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে, যেভাবে ৭১’র সদ্য স্বাধীন দেশের অগ্রযাত্রাকে তারা রুদ্ধ করে দিয়েছিল। কারণ, ’৭৫-এর ঘাতকরা এখনো নানাভাবে দেশের ক্ষতি, শেখ হাসিনার ক্ষতি ও আওয়ামী লীগের ক্ষতি করতে উঠে পড়ে লেগেছে। এ চক্রান্তের বিরুদ্ধে আমাদের সজাগ থাকতে হবে এবং জনসাধারণকে সচেতন করতে হবে।
মরহুমের কন্যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক ওয়াসিকা আয়েশা খান এম.পি বলেন, রাজনীতি সবাইকে নিয়ে করতে হয়। রাজনীতিবিদদের দেশপ্রেম না থাকলে, সাধারণ মানুষের প্রতি দরদ না থাকলে, লোভ পরিহার করতে না পারলে রাজনীতি হয়না। আমার পিতা সেই শিক্ষা আমাকে দিয়ে গেছেন।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন বলেন, ওয়ান ইলেভেনে শেখ হাসিনার পক্ষে কায়সার ঝুকি নিয়ে দাঁড়িয়েছিল, সময়টা খুব কঠিন ছিল, তখন আমরা ক্ষমতায় ছিলাম না, এখন আমরা ক্ষমতায়। বাংলাদেশের অর্থনীতি বঙ্গবন্ধুর কন্যার নেতৃত্বে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। কৃষি ক্ষেত্রেও সফল শেখ হাসিনা, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দিয়ে শেখ হাসিনা প্রমাণ করেছে সরকার চাইলে পারে এর জন্য দরকার মানুষের প্রতি ভালবাসা। এরকম শত সাফল্যে যখন সরকার ভাসছে, তখন কিন্তু সেই ১/১১ এর ষড়যন্ত্রকারীরা বসে নেই। তারা নোংরা খেলাই মেতে উঠেছে। তিনি বলেন, আতাউর রহমান কায়সার বঙ্গবন্ধু, জননেত্রী শেখ হাসিনা ও আদর্শের প্রশ্নে বেঈমানী করেন নি। সামরিক শাসকরা তাকে কারাগারে নিক্ষেপ করেছিল। আওয়ামী লীগের মত দেশপ্রেমিক দলই আতাউর রহমান খান কায়সারের জন্ম দিয়েছে।”
শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এমপি বলেন, আতাউর রহমান খান উদার মনের অধিকারী ছিলেন, বিভিন্ন বিষয়ে তার পান্ডিত্য আমাদের মোহিত করত। রাজনীতিতে সাধারণ নেতা-কর্মীদের সাথে তার সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। অনিয়ম, বিভেদ সৃষ্টি করার মতো রাজনীতি তিনি কখনো করেননি। সড়ক দূর্ঘটনার কারনে জীবন প্রদীপ নিভে না গেলে রাজনীতিতে তিনি আরো কিছু দিতে পারতেন।
চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত স্মরণ সভায় বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এম এ ছালাম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন, নজরুল ইসলাম চৌধুরী এমপি, মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী এমপি, খদিজাতুল আনোয়ার সনি এমপি, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি ও জাতীয় পরিষদ সদস্য নঈম উদ্দিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি এস এম আবুল কালাম, চট্টগ্রাম উত্তির জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি অধ্যাপক মাঈনুদ্দিন, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এ টি এম পেয়ারুল ইসলাম, দক্ষিণ জেলা সহ সভাপতি এড: মুজিবুল হক, মহানগর আওয়ামী লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম, দক্ষিণ জেলার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোসলেহ উদ্দিন মনসুর, উত্তর জেলার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ পালিত, কেন্দ্রীয় শ্রমিক লীগ নেতা শফর আলী, মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শফিউল ইসলাম ফারুক, উত্তর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগ সভাপতি দিলোয়ারা ইউসুফ, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক শামীমা হারুন লুবনা প্রমুখ।

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on linkedin
LinkedIn
Share on email
Email

সম্পকিত খবর