শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বে স্মার্ট বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করাই হবে জাতীয় শোক দিবসের শপথ

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জি: মোশাররফ হোসেন এমপি বলেছেন, ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট বাঙালির জন্য বেদনাদায়ক দিন। এদিন আমরা হারিয়েছি মুজিব পরিবারের সম্ভাবনাময় সদস্যদের। মেজর জিয়া হলো বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের মূল হোতা। বঙ্গবন্ধুর খুনী ও তাদের দোসর মদতদাতারা কখনো চিন্তা করেনি আওয়ামী লীগ একদিন ক্ষমতায় যাবে, বঙ্গবন্ধু কন্যা একদিন প্রধানমন্ত্রী হবেন। তারা এখনো মরীয়া, জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ওরা একাধিকবার হত্যা করার ষড়যন্ত্র করে ব্যর্থ হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করার পর দেশকে উল্টোপথে নিয়ে যাওয়া হয়। বিভ্রান্তি, ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে দেশ ও দলের স্বার্থে আওয়ামী লীগ ঘুরে দাঁড়াতে জানে একথা প্রমান হয়েছে। জননেত্রী শেখ হাসিনার সফল নেতৃত্বের কারনে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আজকের বাংলাদেশকে আরো অগ্রগতির দিকে নিয়ে যেতে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বে স্মার্ট বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করাই হবে জাতীয় শোক দিবসের শপথ। তিনি আজ ৩০ আগস্ট সকাল ১০টায় চট্টগ্রামের জি ই সি কনভেনশন সেন্টারে শোকের মাস আগস্ট জুড়ে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের গৃহীত কর্মসূচীর অংশ হিসাবে শোক দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক ওয়াসিকা আয়শা খান এমপি বলেন, বাংলা ও বাঙালির শ্রেষ্ঠ সন্তান বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতির মুক্তির প্রশ্নে কোন আপোষ করেননি। ক্ষমতা, অর্থের লোভ বা মৃত্যুর ভয় কোনটাই বঙ্গবন্ধুকে কাবু করতে পারেনি। ৭৫ এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু সেনাবাহিনীর কিছু উচ্ছৃঙখল কর্মকর্তা হাতে নিহত হন। এই হত্যার মধ্যদিয়ে শোষিত মানুষের সংগ্রামকে ব্যাহত করার চেষ্ঠা করা হয়। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর মৃত্যু বঙ্গবন্ধুকে মহিমান্বিত করেছে। বঙ্গবন্ধু আজন্ম অমর। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর তার নাম নিতেও স্বৈরচাররা দেয়নি। বঙ্গবন্ধুর নামে মিলাদ পাঠ করতে দেয়া হয়নি। ২১ বছর বঙ্গবন্ধু শব্দটি বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ছিলো।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হারিয়েছি, জাতীয় চার নেতাকে হারিয়েছি এই নৃশংস হত্যাকান্ডের প্রতিশোধ নিতে গিয়ে অনেক বীর সন্তান জীবন দিয়েছে। এসব হত্যাকান্ড ঘটিয়ে শুধু আওয়ামী লীগের নয় দেশ ও জাতির অপূরণীয় ক্ষতি করেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ ঘাটতির দেশ, দূর্নীতিতে পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হবার দেশ, খাদ্য ঘাটতির দেশ, মঙ্গার দেশ, সন্ত্রাসের দেশ ও জঙ্গীর দেশের বদনাম ঘুচিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার সফল নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আজকের বাংলাদেশকে আরো অগ্রগতির দিকে নিয়ে যেতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শেখ হাসিনাকে আবারো প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন করতে হবে।
জাতীয় সংসদের হুইপ শামশুল হক চৌধুরী বলেন, মানুষের প্রতি অনন্য ভালবাসা দেখিয়ে বঙ্গবন্ধু কোটি হৃদয় জয় করেছিলেন। বিশ্বের বুকে আমাদের জাতীয় পরিচয় প্রতিষ্ঠা করতে সমর্থ হয়েছিলেন এই কারনেই তাকে স্বপরিবারে হত্যা করা হয়। এই ঘৃণীত হত্যাকান্ড আমাদের জাতীর জীবনের গতি স্বব্ধ করে দেয়। আজ বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে স্বাধীনতার চেতনায় জাগরণ ঘটিয়ে ইতিহাসের সঠিক ধারায় দেশ ও জনগণকে আনতে সক্ষম হয়েছেন। স্বাধীনতার সুফল ঘরে ঘরে পৌঁছিয়ে দিতে উন্নয়নের ধারায় দেশের সকল খাতকে সংপৃক্ত করতে সফল হয়েছেন।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সুদীর্ঘকাল ধরে পরাধীন বাঙালিকে বঙ্গবন্ধু এক করেছেন। ভৌগলিক স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। অর্থনৈতিক মুক্তি দানের পদক্ষেপ গ্রহনের প্রাক্কালে বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করা হয়। একটা দেশের সোনালী সম্ভাবনাকে নষ্যাৎ করার জন্য এই হত্যাকন্ডকে জাতি মেনে নিতে পারেনি। সামনে আমাদের অগ্নি পরীক্ষা এই পরীক্ষায় উর্ত্তীর্ণ হবার শপথ নিতে হবে।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান বলেন, সুদীর্ঘকাল ধরে পরাধীন বাঙালিকে বঙ্গবন্ধু এক করেছেন। ভৌগলিক স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। অর্থনৈতিক মুক্তি দানের পদক্ষেপ গ্রহনের প্রাক্কালে বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করা হয়। ১৫ ও ২১ আগস্টের ষড়যন্ত্রের পথ মাড়িয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আজ বৃহৎ ও সু-সংগঠিত দল। তিনি সংগঠনের সকল স্তরে সুদৃঢ় ঐক্য গড়ে তুলে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার আহবান জানান।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন নজরুল ইসলাম চৌধুরী এমপি, নোমান আল মাহমুদ এমপি, এ টি এম পেয়ারুল ইসলাম, বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ নেতা হাবিবুর রহমান, এস এম আবুল কালাম, চেমন আরা তৈয়ব, প্রদীপ দাশ, এড: জহির উদ্দিন, মোছলেহ উদ্দিন মনসুর, এড: মির্জা কছির উদ্দিন, খোরশেদ আলম, নুরুল আবছার চৌধুরী, গোলাম ফারুক ডলার, এড: মুজিবুল হক, এড: কামরুন নাহার, আবু জাফর, আবদুল হান্নান চৌধুরী মঞ্জু, বোরহান উদ্দিন এমরান, ডা. তিমির বরণ চৌধুরী, এড: আবদুর রশিদ, বিজয় কুমার বড়–য়া, মো: আইয়ুব আলী, মোস্তাক আহমদ আঙ্গুর, হায়দার আলী রনি, সৈয়দুল মোস্তফা চৌধুরী রাজু, দেবব্রত দাশ, ছিদ্দিক আহমদ বি.কম, মাহবুবুর রহমান শিবলী, আবুল কালাম আজাদ, সেলিম নবী, শাহিদা আক্তার জাহান, পটিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আ ক ম সামশুজ্জামান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক হারুনুর রশিদ, বোয়ালখালী আওয়ামী লীগ সভাপতি নুরুল আমিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রাজা, সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবদুল মোতালেব সিআইপি, সাধারণ সম্পাদক কুতুব উদ্দিন চৌধুরী, চন্দনাইশ উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আবু আহমদ জুনু, লোহাগাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি খোরশেদ আলম, সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন হিরু, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক শামীমা হারুন লুবনা, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবলীগ সভাপতি দিদারুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম জহুর, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি মোহাম্মদ জোবায়ের, সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী মো: গালিব, দক্ষিণ জেলা শ্রমিক লীগ সভপতি নুরুল হাকিম, সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জি: ইসলাম আহমদ, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা কৃষকলীগ সভাপতি আতিকুর রহমান চৌধুরী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা তাঁতীলীগ সভাপতি দিদারুল আলম, সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন, দক্ষিণ জেলা মৎস্যজীবী লীগ সভাপতি মনিরুল হক, সাধারণ সম্পাদক সুরেশ দাশ, দক্ষিণ জেলা যুব মহিলা লীগ যুগ্ম আহবায়ক এড: কামেলা খানম রূপা, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি এস এম বোরহান উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মো: আবু তাহের, খালেদা আক্তার চৌধুরী, কাজী শারমিন সুমী, আবদুল জব্বার চৌধুরী, তৌহিদুল ইসলাম, আইয়ুব বাবুল, লোকমান হাকিম, নাছির উদ্দিন, মো: জসিম উদ্দিন, নঈমুল হক পারভেজ, এম এ মালেক, চৌধুরী আবুল কালাম, মাস্টার সিরাজুল ইসলাম, মোজাহেরুল আলম প্রমুখ।
২য় পর্বে ৪ হাজারের অধিক উপস্থিত সকলের জন্য মেজবানের মধ্য দিয়ে আয়োজনের সফল সমাপ্তি হয়।

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on linkedin
LinkedIn
Share on email
Email

সম্পকিত খবর