
চট্টগ্রামের ষোলশহর ২ নম্বর গেইটে স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত বিপ্লব উদ্যানের পুরো স্মৃতি মুছে ফেলার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠেছে চসিকের বিরুদ্ধে।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নতুন করে আবারো ১টি প্রতিষ্ঠানকে ২৫ বছরের জন্য লীজ দিয়েছে। সেই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তড়িঘড়ি করে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত বিপ্লব উদ্যানের পরিবেশ ধ্বংস করে স্থাপনা তৈরি করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে লীজ নেওয়া কোম্পানির পক্ষ থেকে জয় মুঠোফোনে বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এর কাছ থেকে ২৫ বছরের জন্য লীজ নিয়েছি। তিনি এর বাহিরে (বিস্তারিত) কিছু জানাতে পারবেন না বলেন।
উল্লেখ্য এর আগেও বিপ্লব উদ্যানে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ২০টি দোকান নির্মান করে ছিলেন। সেইসব দোকান প্রতি ২৫ লাখ টাকা করে সেলামী নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিপ্লব উদ্যান এর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হুমায়ুন কবির বলেন, বিপ্লব উদ্যানকে ধ্বংস করার জন্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র রেজাউল করিম বিশেষ সুবিধা নিয়ে একটি প্রতিষ্ঠানকে লীজ দিয়েছে। তিনি আরো জানান বিপ্লব উদ্যানে কোন ধরনের স্থাপনা নির্মাণ না করার জন্য উচ্চ আদালত থেকে রায় দেওয়া হয়েছে। সেই আদেশ অমান্য করেই তারা আরো দোকানপাট নির্মাণ করছে। আমরা বিপ্লব উদ্যানে আর কোন স্থাপনা দোকানপাট নির্মাণ না করার জন্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে অনেকবার বলেছি। প্রতিবাদ জানিয়ে রাস্তায় মানববন্ধনও করেছি।
তিনি আরো বলেন, ৪ বছর আগে সাবেক মেয়র বিপ্লব উদ্যানে ২০টি দোকান নির্মাণ করেছিল। প্রতি দোকান থেকে ২৫ লাখ টাকা করে সেলামী নিয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন সেই ২০টি দোকান থেকে বাৎসরিক ভাড়া নেন এক লাখ টাকা।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নগর পরিকল্পনাবীদ আব্দুল্লাহ আল ওমর এর দপ্তরে তাকে না পেয়ে তার মুঠোফোনে এ বিষয় নিয়ে জানতে চাইলে বলেন, আমি বিপ্লব উদ্যান নিয়ে কিছু বলতে পারবো না , এগুলো প্রধান প্রকৌশলীর কাছ থেকে জিজ্ঞেস করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী মোঃ শাহিন উল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বিপ্লব উদ্যানের বিষয় নিয়ে আমি কিছুই জানিনা প্রকৌশল বিভাগকে কিছুই জানানো হয় নাই।
সাবেক চট্টগ্রাম মহানগর পিপি ও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক এডভোকেট আব্দুস সাত্তার বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতি ধ্বংস করার জন্য পরিকল্পিতভাবে তারা বিপ্লব উদ্যানে মার্কেট সহ বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি করছে।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান বলেন, বিপ্লব উদ্যান স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরুর একটা ঐতিহাসিক জায়গা। এটাকে আমরা সংরক্ষণ করবো। এখানে আমরা অন্য কিছুই রাখবো না, সবকিছুই (দোকানপাট) ভেঙে ফেলা হবে।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ বলেন, বিপ্লব উদ্যানকে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় প্রথম ঘোষণা দেন সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান। সুতরাং বিপ্লব উদ্যানকে রক্ষা করা এটা সকলের দায়িত্ব। বিশেষ করে জাতীয়তাবাদী শক্তির নেতাকর্মী যারা আছে তাদের সবার দায়িত্ব। আপনি যখন বলেছেন আমি কালকেই আমাদের নেতা – কর্মী নিয়ে ওখানে (বিপ্লবী উদ্যানে) যাবো। দেখি আমরা ওখানে গিয়ে কি করতে পারি ।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, বিপ্লব উদ্যান নিয়ে অনেক কিছু হয়েছে একজনে দোকান করেছে আরেকজনে ভেঙেছে। বিপ্লব উদ্যান নিয়ে উচ্চ আদালতের একটা নির্দেশনা আছে, আমরা সেই মোতাবেক কাজ করবো। ওখানে আর কোন ধরনের কাজ চলবে না, আমরা কালকেই তাদেরকে নোটিশ দিব।